জেলা

বেআইনি বালি পাচারের দাবিতে অবরোধ!

সংবাদ সফর, আসানসোল: বেআইনি বালি কারবার চলছিল। এ কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিলেন বালি কারবারিরা। দিন দুয়েক আগে এ ধরনের বেআইনি কাজ কারবারের কথা তাদের জানা নেই বলে দাবি করা হয় পুলিশ প্রশাসনের তরফে। কিন্তু এ কি কাণ্ড। হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিলেন বালি কারবারিরাই! অতঃপর পুলিশ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা মুখ রক্ষা করবেন কীভাবে ? সেক্ষেত্রে কুলটি থানার সাকতোড়িয়া ফাঁড়ি এলাকায় দিনে দুপুরে এ ধরনের কারবার চলছিল কাদের মদতে? কিসের কারণে সব জেনেশুনেও কার্যত হাত-পা গুটিয়ে বসেছিল পুলিশ প্রশাসন? এসব নানা প্রশ্ন উঠছে জনমানসে।

এ ব্যাপারে শাসক দল সহ পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিরোধী বিজেপি নেতৃত্ব। যদিও শাসক দলের তরফে বেআইনি কাজ কারবার কোনোভাবেই বরদাস্ত নয় বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে অবশ্যই। কিন্তু বেআইনি কারবার চালু রাখার দাবিতে পথ অবরোধের ঘটনায় পরিস্থিতি রীতিমতো ঘোরালো হয়ে উঠেছে। পথ অবরোধকারী স্থানীয় মানুষজন ও বালি কারবারিদের সাফ বক্তব্য, কর্মসংস্থানের কোনও ব্যবস্থা নেই। সংসার বা পেট চালানোর উপায়ান্তর না পেয়ে তারা এ ধরনের বেআইনি কারবারে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছেন। সেক্ষেত্রে বেআইনি হলেও এ ধরনের কাজ কারবার বন্ধ করা চলবে না। এই দাবিতেই পথ অবরোধে শামিল হন তারা।

অবরোধ তুলতে গেলে পুলিশের সঙ্গে রীতিমতো বাদ বিবাদে জড়িয়ে পড়েন অবরোধকারীরা। বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না হলে বেআইনি বালি কারবার তারা চালাবেন বলে হুঁশিয়ারিও দেন আজিজ খান, কুরবান আনসারী, মহম্মদ কৌসররা। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি কিন্তু ঘোরালো হয়ে উঠছে- এ কথা বলাই বাহুল্য। এদিকে এসব নিয়ে শাসক দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে সরব হয়েছেন বিজেপির যুবনেতা অমিত গড়াই।

তার বক্তব্য, একদিকে যখন মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি কয়লা বালি লোহার কারবার বন্ধের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, ঠিক তখনই রাস্তায় নেমে এ ধরনের কাজ কারবার চালু রাখার পক্ষে দাবি জানাচ্ছেন স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা সহ দুর্নীতির অভিযোগে সোচ্চার হয়েছেন ওই বিজেপি যুব নেতা। যদিও তৃণমূল নেতা বিমল দত্তের বক্তব্য, কোনভাবেই বেআইনি কাজ কারবার বরদাস্ত করা হবে না এলাকায়। সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বালি চালানো যাবে না জানিয়ে দেন তিনি। সেক্ষেত্রে কোথাকার জল কোথায় দাঁড়ায় তা সময়ই বলে দেবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button