আদিবাসীদের জমিতেও হাত পড়ল ভূমি মাফিয়াদের! জোর জল্পনা জঙ্গলমহলে

সংবাদ সফর, কাঁকসা: আদিবাসীদের জন্য সংরক্ষিত জমিতেও হাত পড়ল ভূমি মাফিয়াদের। এমনকি সবুজে ঘেরা ওই এলাকায় বেআইনিভাবে নির্বিচারে গাছগাছালি কেটে ফেলা হয়েছে। এই অভিযোগেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে কাঁকসার জঙ্গলমহলে। অভিযোগ, কাঁকসা একলব্য আবাসিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের সামনে বিস্তীর্ণ জমিতে হাত পড়েছে ভূমি মাফিয়াদের। আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনের জন্য ব্যবহৃত ছায়া সুনিবিড় সবুজে ঘেরা ওই জমির প্রায় ১০০টির মতো গাছ নির্বিচারে কেটে ফেলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের ভুয়ো অনুমতিপত্র দেখিয়ে এভাবে সবুজ ধ্বংসের পরিকল্পনা করেছে জমি মাফিয়ারা। এমনকি আদিবাসীদের ব্যবহৃত সরকারি খাস জমি দখলের চক্রান্তও করেছে তারা বলে অভিযোগ ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহলের। এ ব্যাপারে আদিবাসী সংগঠনের নেতা জয়দেব মুর্মুর বক্তব্য, ১৯৭৮ সালে তৎকালীন রাজ্যপাল ত্রিভুবন নারায়ণ সিংয়ের তৎপরতায় কাঁকসা ব্লকের রঘুনাথপুর মৌজার এই ১২ বিঘা সরকারি খাস জমি আদিবাসীদের সার্বিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দান করা হয়। পরে সেখানেই আদিবাসীদের জন্য একলব্য আবাসিক বিদ্যালয় তৈরি করা হয় সরকারের তরফে। প্রতিবছর নিয়ম করে জঙ্গলমহল উৎসব সহ ওই বিস্তীর্ণ জমিতে আদিবাসী সমাজের মানুষজন বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক মেতে ওঠেন। এবার আদিবাসীদের ওই জমি দখলের পরিকল্পনা করেছে ভূমি মাফিয়ারা। তারই ফলস্বরূপ বেআইনিভাবে সবুজ গাছগাছালি কাটার কাজ শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ ভারত জাকাত মাঝি পারগনা মহলের। মোটা টাকার বিনিময়ে আদিবাসীদের জন্য ব্যবহৃত ওই জমির হাত বদলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আদিবাসী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। অবিলম্বে এসব বন্ধে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের দলিল দস্তাবেজ বিচার-বিশ্লেষণ সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন কাঁকসার ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক।